একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী (প্রুফ রিডার)থেকে তদবির ও দুর্নীতির মাধ্যমে যেভাবে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক !

F-U-Masud

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সর্বদা একজন মতলববাজ, সুবিধাবাদী এবং উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি হিসেবে সবমহলে চিহ্নিত। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী (প্রুফ রিডার) থেকে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরে তিনি তদবির এবং চাতুর্যের কারণে অন্তত ২ ডজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করে সংস্থাটির পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। ২০০১ সালে তার বিরুদ্ধে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তিনি রাতারাতি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যান।

 
চাকরির পাশাপাশি তিনি এনজিও ব্যবসাও শুরু করেন। ‘ইছলাহুল মোছলেমিন’ নামক তার একটি এনজিও রয়েছে। এনজিওর অর্থদাতা ছিলেন লন্ডনসহ ইউরোপের কতিপয় অজ্ঞাত ব্যক্তি। ১৯৯৬ সাল-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বায়তুল মোকাররমের খতিব হওয়ার জন্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ তত্কালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে তদবির শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা তত্কালীন খতিব সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম মাওলানা উবায়দুল হককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায় নিয়ে তিনি পুনরায় বায়তুল মোকাররমের খতিব পদে আসীন হন। মাওলানা মাসউদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

 
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাওলানা মাসউদ শোলাকিয়ার ইমাম হওয়ার জন্য তদবির শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তদবির করে তিনি শোলাকিয়ার ইমাম হওয়ার কাজে সফল হন এবং তাকে শোলাকিয়ার ইমাম হিসেবে চিঠি ইস্যু করা হয়। সেখানে শোলাকিয়ার প্রথম ইমামের অধঃস্তন বংশধরদের দিয়ে নামাজ পড়ানোর শত বছরের ঐতিহ্য ধ্বংস করে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ ইমাম হলে স্থানীয় জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শোলাকিয়া মুসল্লি পরিষদ নামে একটি সংগঠন দীর্ঘদিন এ নিয়ে আন্দোলন করে।

তারা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে বাদ দিয়ে আগের সর্বজন স্বীকৃত ইমামকে বহাল রাখেন। কিন্তু সরকার আপিল বিভাগের চেম্বার জজের মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে সরকারি আদেশ বহাল রাখার ব্যবস্থা করে। আর এভাবেই ফরিদ উদ্দিন মাসউদ শোলাকিয়ার ইমাম হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন।

 
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা আরও বলেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা সালাহ উদ্দিন ‘শারীরিকভাবে দুর্বল’ এ তথ্য পেশ করে মাওলানা মাসউদ এখন ওই পদ দখলেরও চেষ্টা করছেন। এ কারণে তিনি সরকারকে খুশি করতে শাহবাগের নাস্তিক ব্লগারদের কাতারে নিজেকে বিলীন করে দেন।

তথ্যসূত্র : http://goo.gl/QDyKhL

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: