ডাঃ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে প্রচলিত ক​য়েকটি অপবাদ, সমালোচনা ও তার জবাব

1137535-Dr_Zakir_Naik_b-1467896951

এতোদিন ড. জাকির নায়েক শুধু আলোচনার বিষয় থাকলেও বর্তমানে তিনি আলোচনার পাশাপাশি অনেকের সমালোচনার পাত্রও বটে। ভারতের আল্লামা সাইয়্যিদ খালিক সাজিদ বোখারী কর্তৃক ড. জাকির নায়েকের বিপক্ষে ‘হাকীকতে ড. জাকির নায়েক’ নামক একটি বই লেখার পর আমাদের দেশের কয়েকজন শীর্ষ আলেম এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী পত্রিকা ড. জাকির নায়েকের কঠোর সমালোচনা করে বই ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তাই বর্তমানে আমাদের ইসলামী অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলা এ বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

অপবাদঃ ডাঃ যাকির নায়েক বলেছেন আল্লাহকে আমরা ব্রাহ্ম ও বিষ্ণু নামে ডাকতে পারবো।

উত্তরঃ ব্রাহ্ম ও বিষ্ণু এই নামগুল সংস্কৃত নাম। এই ২টি নামই আরবীতে নিলে আল্লাহর ৯৯টি নামের মধ্য হতে ২টি নামের কাছে চলে যায়। যেমনঃ ব্রাহ্ম নামটি আরবীতে নিলে তা অনেকটা ‘খালিক’ নামের মত অর্থ করে। বাংলাতে অর্থ হয় ‘স্রষ্টা’ আর যেহেতু আমরা আল্লাহকে ‘খালিক’ অথবা ‘স্রষ্টা’ নামে ডাকতে পারবো তাই ডাঃ যাকির নায়েক এই কথা বলেছেন। তাহলে যারা আল্লাহকে ‘ব্রাহ্ম’ নামে ডাকতে বলাতে নিন্দা করছেন তারা ‘স্রষ্টা’ নামে ডাকতেও বাধা দেওয়ার দরকার। কারণ হিন্দুরাও তো তাদের দেবতাদের ‘স্রষ্টা’ বলে ডাকে। যেহেতু ‘ব্রাহ্ম’ বলে ডাকা যাবে না সেহেতু ‘স্রষ্টা’ বলেও ডাকা যাবে না কারণ এই ২ টি অর্থ এক। কিন্তু ডাঃ জাকির নায়েক এটিও বলেছেন যদি কেও বলে ‘ব্রাহ্ম’ হল সে যার কয়েকটা হাত আছে,এরকম করে যদি আকার দেওয়া হয় তাহলে আমরা মুসলিমরা আপত্তি জানাবো(লেকচারঃ ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য/প্রধান ধর্ম গুলতে স্রষ্টার ধারনা) কিন্তু একটি জিনিস আমাদের বুঝতে হবে তা হল ডাঃ জাকির নায়েক এসব কথাগুলো হিন্দুদের বলেছেন। তিনি মুসলিমদের এই কথা বলছেন না যে আপনারা ‘খালিক’ নাম বাদে ব্রাহ্ম নামে আল্লাহকে ডাকুন। তিনি শুধুমাত্র ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য দেখিয়েছেন। আমরা আল্লাহকে ‘খালিক’ নামেই ডাকব ‘ব্রাহ্ম’ নামে ডাকব না।

অপবাদঃ ডাঃ যাকির নায়েক বলেছেন রাম আর অর্জুন নবী।

উত্তরঃ ডাঃ যাকির নায়েক কখনই এই কথা বলেন নাই যে রাম আর অর্জুন নবী, বরং তিনি বলেছেন তারা নবী হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।কারণ কোরানে শুধু মাত্র ২৫ জন নবীর নাম বলা হয়েছে।(লেকচারঃ ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য/প্রধান ধর্ম গুলতে স্রষ্টার ধারনা) রাসুলুল্লাহ(সা) এর হাদিস অনুসারে পৃথিবীতে প্রায় ১ লক্ষেরও বেশী নবী এসেছেন। এর মধ্যে কোরআনে ২৫ জন নবীর নাম এসেছে। রাম আর অর্জুন এর কিছু কাজ নবীদের কাজের সাথে মিলে। তাই ডাঃ যাকির নায়েক বলেছেন রাম আর অর্জুন নবী হতে পারেন আবার নাও হতে পারেন। কিন্তু আমরা(মুসলিমরা) কখনই রাম আর অর্জুন এর উপর নবী হিসাবে ঈমান আনব না। কারন তারা নবী বলে প্রমানিত নয়।

অপবাদঃ ডাঃ জাঁকির নায়েক নাকি বলেছেন কোরআনে ব্যাকারনগত ভুল আছে।

উত্তরঃ কোরআনে ব্যাকারনগত ভুল আছে এই কথা ডাঃ জাঁকির নায়েক বলতেই পারেন না। বরং, আমেরিকাতে ডাঃ উইলিয়াম ক্যাম্পবেল এর সাথে বিতর্ক করার সময়ে ডাঃ জাকির নায়েককে এক অমুসলিম প্রশ্ন করেছিলেন, তার প্রশ্ন ছিলঃ

“ডাঃ জাঁকির নায়েক আপনি বলেছেন কোরআনে কোন ভুল নেই কিন্তু আমি দেখছি যে এতে ২০ টিরও অধিক আরবি ব্যাকারনগত ভুল রয়েছে। আমি এর মধ্য থেকে কয়েকটি উল্লেখ্য করতে চাই যেমন সুরা বাঁকারা ও সুরা হাজ্জ এ বলা হয়েছে- ‘আসাবিউন’ কিংবা ‘আসাবিরীন’ এটা ১ নম্বর ভুল। ২য় ভুল হচ্ছে,  আপনি বলেছেন, প্রায় একই বিষয় যা সুরা ত্ব-হা’র ৬৩ নং আয়াতে রয়েছে এটাও ভুল। এটি কি আপনি ব্যাখ্যা করতে পারেন? আর সেখানে রয়েছে আর মারাত্মক ভুল”

এর উত্তরে ডাঃ জাকির নায়েক বললেনঃ “আমার ভাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। আমাকে আর অধিক যথার্থ হতে হবে।তিনি ২০টি ব্যাকারনগত সমস্যার কথা বলেছেন।আর তিনি সম্ভবত আব্দুল ফাঁদির রচিত বই থেকে উল্লেখ করেছেন,বইটা কি সঠিক? কোরআন কি ভুল-ভ্রান্তির উর্ধে নয়? ” এখানে আমি ২০ টি প্রশ্নেরই উত্তর দিব কারণ আমি উল্লেখিত বইটি পরেছি। প্রথম বিষয়ে টি হচ্ছে সমস্ত আরবি ব্যাকারনই কোরআন কে সংকলিত। আর কোরআন হচ্ছে উচ্চমানের আরবি বই। এটি এমন একটি বই যেখানে সর্বচ্চমানের সাহিত্য সন্নিবেশিত রয়েছে। যেহেতু কোরআন হচ্ছে আরবি ব্যাকারনের নিদর্শন আর সকল আরবি ব্যাকারনই পবিত্র কোরআন থেকে সংকলিত সেহেতু এখানে(কোরআনে) কোন ভুলই থাকতে পারে না। আরবের অঞ্চল ভেদে শব্দের পরিবর্তন রয়েছে যেমন কোন অঞ্চলে যেই শব্দ পুরুষবাচক অন্য অঞ্চলে তা স্ত্রীবাচক। আরবের অঞ্চলভেদে ভাষার পরিবর্তন বিদ্যমান। সুতরাং আপনি কি ভুলকৃত ব্যাকারন দিয়ে কোরআন যাচাই করবেন? কখনই না।(রচনা সমগ্র;পৃ-৮৯,খণ্ড-১,অধ্যায়-২,কোরআন ও বাইবেল। লেকচারঃ Quran & Bible In The Light Of Mordern Science,Questions & Answers Session) ডাঃ জাকির নায়েকের এই কথার মাধ্যমেই প্রমাণ হয় তিনি কোরআনকে নির্ভুল মানেন। আর  কোরআনে ব্যাকারনগত ভুল আছে এই কথা ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেন বলে কথাও আমি পাইনি এবং ইনশা আল্লাহ পাবোও না।

অপবাদঃ ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেন ‘বেদ’ আল্লাহর কিতাব।

উত্তরঃ ডাঃ জাকির নায়েক এই কথা বলেন নি বরং তিনি বলেছেন ‘বেদ’ আল্লাহর কিতাব হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যদি হয়েও থাকে তার পরও এই কিতাব এখন আল্লাহর কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়। কোরআনে আল্লাহ ৪ টি কিতাবের নাম বলেছেন। যেহেতু, ‘বেদ’ বলছে এক আল্লাহকে নিয়ে, বলছে নাবী(সা) কে নিয়ে তাই এই কিতাবকে ডাঃ জাকির নায়েক আল্লাহর কিতাব হতেও পারে আবার নাও হতে পারে বলে দাবী করেছেন। যদি এই কিতাব আল্লাহর পাঠান না হয় তাহলে কিভাবে এই কিতাবে এক আল্লাহ ও নাবী মুহাম্মাদ(সা) এর ব্যাপারে বলছে? তাই ডাঃ জাকির নায়েক এই কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা বেদ কে আল্লাহর কিতাব বলে ইমান আনব না।

অপবাদঃ ডাঃ জাকির নায়েক নাকি বলেছেন যে ৪ জন মহিলা নবী এসেছেন আর তারা হলেন- বিবি মরিয়ম,বিবি আসিয়া,বিবি ফাতিমা,বিবি খাদিজা

উত্তরঃ ডাঃ জাকির নায়েক এর লেকচার দেখলেই আপনারা দেখবেন তিনি বিবি ফাতিমা ও মা খাদিযা(রা) এর পর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলেন, তিনি যদি তাদের নবী মানতেন তাহলে তিনি তাদের নামের পর বলতেন (আঃ)।

এছাড়াও এই কথা ডাঃ জাকির নায়েক কখনই বলেন নি, তার কোন বইতেও এই লেখা নেই। বরং তার বই রচনা সমগ্র এর খণ্ড-১ এর প্রশ্ন-উত্তর পর্ব অধ্যায় এর ৬৭৭ পৃঃ বলেছেন- ‘যদি নবী বলতে আপনি বুঝেন এমন এক ব্যক্তি যিনি আল্লাহর কাছ থেকে বানী গ্রহণ করেন ও যিনি মানব জাতির নেতা হিসাবে কাজ করেন তাহলে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ইসলামে আমরা কোন নারী নাবী পাইনি’ এখানে তিনি নারী নবী হওয়ার বিরদ্ধে আর যুক্তি দিতে গিয়ে বলেনঃ “যদি মহিলা নবী হত আর স্বাভাবিক ভাবে সে গর্ভবতী হত তবে তার পক্ষে কয়েক মাস নবুয়াত এর নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হত না। আর যদি আপনি নবী বলতে বুঝান আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তি তাহলে কিছু মহিলার উদাহরণ হল- বিবি মরিয়াম,আসিয়া,খাদিজা,ফাতেমা(রা)” কিন্তু তিনি এখানে তাদেরকে নবী বলেন নি বরং আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তি বলেছেন।

অপবাদঃ ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেন নবী মুহাম্মাদ(সা) তার কবরে স-শরীরে মৃত।

উত্তরঃ আল্লাহ কোরআনে বলেছেনঃ “বল(হে নবী!) আমিও তমাদেরই মত একজন মানুষ”(সুরা কাহাফ;১১০) এছাড়াও আল্লাহ কোরআনে নাবী(সা)কে লক্ষ্য করে বলেছেনঃ “তোমাকেও মরতে হবে তাদেরও মরতে হবে”(সুরা জুমার;৩০) এখানে আমরা দেখতে পারছি ডাঃ জাকির নায়েক ঠিক কথাই বলেছেন। এছাড়াও আপনি তাফসীর ইবনে কাসীর এ এই আয়াত(সুরা জুমার;৩০) এর তাফসীর দেখতে পারেন। সেখানেও ইমাম ইবন কাসীর(রহ) সুরা জুমার ৩০ নং আয়াতের তাফসীরে বলেছেন যে “রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত”

অপবাদঃ ডাঃ জাকির নায়েক কোন মাদ্রাসা থেকে লেখা পরা করেন নি,তার কোন ইসলামিক ডিগ্রী নেই। তাই তার ইসলাম সম্পর্কে বলাল কোন অধিকার নেই।

উত্তরঃ  কোরআন বা সহীহ হাদিস এর কোথাও এমন কথা লেখা নেই যে, মাদ্রাসা বা ইসলামিক ডিগ্রী না থাকলে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না। ইমাম আবু হানিফা(র) কোন মাদ্রাসা থেকে লেখা পড়া করেছেন? কোন ডিগ্রী অর্জন করেছেন? না তিনি কোন মাদ্রাসা এ পড়েছেন না তিনি কোন দিগ্রী অর্জন করেছেন। তার পরও ইমাম আবু হানিফা(র) এর তাকলীদ করছে একদল মানুষ। যদি মাদ্রাসা ও ডিগ্রী না থাকার পরও ইমাম আবু হানিফার(র) তাকলীদ করা যায়ে সেখানে কি ডাঃ যাকির নায়েক ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন না? এই ২ মুখি নিতি কেন?  ডাঃ যাকির নায়েক  মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহন করে থাকেন যখনই সেখানে তিনি যান।

অপবাদঃ ডাঃ যাকির নায়েক সার্ট ও প্যান্ট পরিধান করেন। এটি জায়েজ নয়ে।

উত্তরঃ কোরআন বা সহীহ হাদিস এর কথাও এরুপ পোশাক পরিধান করাকে হারাম বলা হয়ে নি। হিজাব এর নিয়মেও এরুপ পোশাক পরিধান করাকে নিষেধ করা হয়ে নি। হাদিসে রাসুলুল্লাহ(সা) কামিস পরিধান করেছেন বলে প্রমান পাওয়া যায়ে। কিন্তু এই কারনে সার্ট ও প্যান্ট পরিধান করাকে হারাম বলা যাবে না। কেননা আজ আমরা মোবাইল ব্যবহার করছি কিন্তু রাসুলুল্লাহ(সা) তো তা করেন নি, তাই বলে কি মোবাইল ব্যবহার করা হারাম হচ্ছে? না, ঠিক তেমনি সার্ট ও প্যান্ট পরিধান করাও হারাম হচ্ছে না। মজার বিষয় হচ্ছে- যারা পোশাক পরিধানে রাসুলুল্লাহ(সা) কে অনুসরণকে বাধ্যতামুলক বলছে তারাই ইবাদাতে রাসুলুল্লাহ(সা) কে বাদ দিয়ে বিভিন্ন মানুষের অনুসরণ করছে।

অপবাদঃ ডাঃ যাকির নায়েক ‘টাই’ পরিধান করেন, এটি খ্রিস্টানদের প্রতীক।

উত্তরঃ  কোরআন বা সহীহ হাদিস এর কোথাও এবং বাইবেল এর কোথাও এরুপ কোন কথা নেই যে ‘টাই’ খ্রিস্টানদের প্রতীক। এমনকি খ্রিস্টানদের পাদ্রীরাও(ফাদার) ‘টাই’ পরিধান করে না। এতেই স্পষ্ট যে, ‘টাই’ খ্রিস্টানদের প্রতীক না। এছাড়াও ডাঃ যাকির নায়েক নিজেই বলেছেনঃ “কেও যদি প্রমান করতে পারেন যে ‘টাই’ খ্রিস্টানদের প্রতীক তাহলে আজকেই আমি ‘টাই’ পরা বন্ধ করে দিব” আর ‘টাই’ কে সোজা করে ধরে দেখুন ‘টাই’ ক্রুস এর মত নয়ে বরং সোজা লাঠির মত। কিন্তু একটি পাঞ্জাবী বা জুব্বা সোজা করে ধরে দেখুন এটি ক্রুস এর মত। তাই বলে কি পাঞ্জাবী বা জুব্বা পরা হারাম? না, কখনোই না।

অপবাদঃ ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেন, দাড়ি রাখা ও টুপি পরার কথা কোরান ও হাদিসে নেই।

উত্তরঃ ডাঃ জাকিরের নামে তোলা অভিযোগ গুলর মধ্যে এটি হাস্যকর। যাই হোক, ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেনঃ “দাড়ি রাখার ব্যাপারে হুকুম এসেছে সহীহ হাদীসে” ও টুপি পড়ার ব্যাপারে বলেছেনঃ “টুপি পড়া ফরয নয় তবে এটি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ” [ডাঃ জাকির নায়েক-লেকচার সমগ্র,অধ্যায়-পোশাকের নিয়মাবলী, পৃঃ ৪৯৩ ও ৪৯৪;সত্যকথা প্রকাশনী]

 

উপরে আমার মত(মাইনুদ্দিন আহমেদ শুভ) একজন সাধারণ মানুষ ২৪ টি অপবাদের উত্তর দিয়েছি। তাহলে চিন্তা করুন একজন সত্য আলেম কতই না সুন্দর ভাবে ডাঃ জাঁকির নায়েক এর উপর তোলা অপবাদের উত্তর দিতে পারবে। এসব তথাকথিত হানাফীরা হয় অন্য মাজহাবকে সহ্য করতে পারছে না অথবা ইসলাম প্রচার করাকে সহ্য করতে পারছে না যার কারণে ডাঃ জাঁকির নায়েক এর পিছনে লেগে আছে। ডাঃ জাঁকির নায়েক এর ৯৯% কথাই কোরআন ও সহীহ হাদীস এবং  কোন না কোন মাজহাব দ্বারা সমর্থিত।

তবে আমরা মনে রাখব যে ডাঃ জাকির নায়েক নবীও না ফেরেশতাও না আবার শয়তানও না। মানুষ হিসাবে তার কিছু ভুল হতে পারে, এটি স্বাভাবিক তবে এসব ভুলের উর্ধে হল তার খেদমত। এবং তার ৯৯% মতামত কোনো না কোনো মাযহাব অথবা মুজতাহিদ দের মাধ্যমে স্বীকৃত।

অপবাদঃ “তিনি পড়াশোনা করেছেন খৃষ্টান মিশনারী ও হিন্দুদের স্কুল-কলেজে।” এরপর তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং কুরআন হাদীস দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।

– উলামায়ে কিরামগণ এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, শরীয়তের কোন বিধান লংঘন না হলে স্বাভাবিকভাবে ও সাধারণত: স্কুল-কলেজে পড়াশোনা হারাম কিংবা অন্যায় কোন কাজ নয়। প্রয়োজনীয় দীনী ইলম অর্জনের পর একজন মানুষ যে কোন বিষয়ের ইলম অর্জন করতে পারেন। যে কোন বৈষয়িক বিষয়ে পান্ডিত্য লাভ করতে পারেন।

সাহাবায়ে কিরাম রা. মুশরিক, ইহুদী ও অন্যান্য ধর্ম ছেড়ে মুসলিম হয়ে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেকে পরিবর্তন করেছেন। এরপর দীনের দাওয়াত দিয়েছেন কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে। -এটা যদি অন্যায় বা নিন্দনীয় না হয়ে প্রশংসার বিষয় হয়, তাহলে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করার পর কুরআন-হাদীস নিয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা এবং তার পর দীনের দাওয়াতের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করাও নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

অপবাদঃ  কুরআন হাদীস নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রয়োজন কিন্তু এ ব্যাপারে তার কোন শিক্ষক নেই।

ড. জাকির নায়েকের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কোন শিক্ষক নেই বলে যারা মন্তব্য করছেন, নি:সন্দেহে তারা না জেনে অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। আরব দেশগুলো শেখ আহমাদ দীদাতকে একজন শ্রেষ্ঠ ইসলামিক পন্ডিত বলে বিবেচিত। ড. জাকির নায়েক নিজে তার অধীনে ইসলামের উপর পড়াশোনা করেছেন। শেখ আহমাদ দীদাতও ড. জাকিরকে তার শ্রেষ্ঠ ছাত্র বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শেখ আহমাদ দীদাত সম্পর্কে জাকির নায়েকের সমালোচকগণও নিজ বইতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি একজন শ্রদ্ধেয় এবং ‘হক পন্থী’ দীনের দায়ী।

ড. জাকির নায়েক আলেমদের সম্পর্কহীন কথাটিও পুরোপুরি ভুল এবং সীমাহীন মুর্খতার পরিচায়ক। বরং ড. জাকির নায়েক যে পরিমাণ আলেম আর আন্তর্জাতিক শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দীনের কাজ করেন, বর্তমান বিশ্বে তার দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। ড. জাকির নায়েকের যে কোন গবেষণা ও বক্তব্যে তার এই উলামা টীমের অবদান নি:সন্দেহে অনস্বীকার্য। তার আলোচনায় ইলমী এবং ইজতিহাদী বিষয়াবলীর সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম উপস্থাপনই বলে দেয় যে, এগুলো রচনা ও গ্রন্থনার পেছনে কত মেধাবান আর বিজ্ঞ আলেমদের অবদান ছিলো।

আরবের প্রায় সকল শীর্ষ ইসলামী পন্ডিতদের সাথে ড. জাকির নায়েকের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। গত রমজানে ড. জাকির নায়েকের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য কাবা শরীফের সম্মানিত ইমাম, শায়খ সুদাইসী প্রাইভেট বিমান নিয়ে ছুটে আসেন এবং অনুষ্ঠান শেষ করে আবার মক্কায় ফিরে যান।

অপবাদঃ “ড. জাকির নায়েকের কুরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ নয়।

– নি:সন্দেহে প্রতিটি মুসলমানের জন্য পবিত্র কুরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা দরকার। ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত যদি লাহনে যলী হয় তাহলে তার ইমামতি শুদ্ধ হয় না এব্যাপারেও কারো দ্বিমত নেই।

এটা ঠিক যে ড. জাকির নায়েকের আরবী উচ্চারণ খানিকটা আটকে যায়। শুধু আরবী উচ্চারণই নয় বরং যারা ড. জাকির নায়েকের আলোচনা শুনেছেন তারা দেখেছেন যে, ড. জাকির নায়েকের ইংরেজি ভাষা ও বক্তব্যও অতোটা শ্র“তিমধুর নয়। তার ইংরেজি শব্দ উচ্চারণও আটকে যায় এবং শব্দগুলো খানিকটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসে। জন্মগতভাবে কিংবা কারণবশত: যদি কারো মুখে জড়তা থাকে তাহলে এমনটি হতে পারে। তার তিলাওয়াত শুনে আমার যা মনে হয়েছে তা হলো, শারীরিক কোন ত্র“টি থাকার কারণেই সম্ভবত: তার শব্দের উচ্চারণ অতটা শ্র“তিমধুর নয়।

যারা আগ্রহ করে তার আলোচনা শুনতে যান বা শুনেন তারা তার কথা এজন্য শুনেন না যে তাতে সূর, তাল, লয় কিংবা উচ্চাঙ্গের সাহিত্য-লালিত্যপূর্ণ ভাষা ও শৈল্পিক ব্যাকরণ আছে। বরং তারা তার থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর তথ্য-তত্ত্ব এবং যৌক্তিক ও প্রামাণ্য আলোচনা শোনার জন্য।

তবে এটা যদি শারীরিক কারণে হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কিছু করার নেই। কিন্তু যদি তিলাওয়াত ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটা দূর করার কোন ব্যবস্থা থাকে তাহলে তা করা দরকার। আর যদি এটি শারীরিক সমস্যা নাও হয়ে থাকে তাহলেও এটি এমন কোন বিষয় নয়, যার ফলে তার জন্য দীনের দাওয়াত দেয়া বন্ধ রাখতে হবে। উচ্চারণ সমস্যার কারণে যেমনিভাবে একজন মুসলিমের উপর নামাজ পড়া, রোজা রাখার বিধান রহিত হয় না, একইভাবে উচ্চারণ সমস্যার কারণে ড. জাকির নায়েককে ‘দীনের দাওয়াত ও তাবলীগ’ বন্ধ করে দিতে হবে এমনটিও আবশ্যক নয়। বরং এটা তো আরো প্রশংসনীয় যে, হযরত বিলাল রা. কিংবা হযরত মূসা আ. এর মতো মহান ব্যক্তিরা যেমন নিজেদের উচ্চারণ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দীনের দাওয়াত নিয়ে এগিয়ে গেছেন তেমনি জাকির নায়েকও কষ্ট করে হলেও দীনের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বোপরি ড. জাকির নায়েক যেহেতু ইমাম কিংবা কিরাআতের প্রশিক্ষক নন, তাই এই বিষয়টি দিয়ে তাকে অভিযুক্ত করা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

অপবাদঃ পর্দার ব্যাপারে ড. জাকির নায়েকের শিথীলতা। তার অনুষ্ঠানে পুরুষ-মহিলাদের অংশগ্রহণ।

– মহিলাদের মুখমন্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত হবে কি না তা নিয়ে স্বয়ং ইমামদের মধ্যেই ইখতেলাফ রয়েছে। মহান আল্লাহ মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে বলেছেন,

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا.

অর্থ: “আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। আর ‘যা সাধারণত প্রকাশ পায়’ তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না।” (সূরা নূর, আয়াত ৩১)

এই আয়াতে ‘যা সাধারণত প্রকাশ পায়’ বাক্যের ব্যাখ্যায় হাত, পায়ের পাতার সাথে মুখকেও খোলা রাখা যাবে বলে হযরত ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ ও আতা (রহিমা.) মত দিয়েছেন। সুতরাং মহিলারা এটা খোলা রাখতে পারবে। যদিও আহনাফের মতে বর্তমান সময়ে মহিলাদের মুখমন্ডল খোলা রাখার দ্বারা ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় এটিও ঢাকতে হবে। ড. জাকির নায়েকও তার If Label Shows Your Intent Wear It বা “মুসলিমদের পোষাক কেমন হওয়া উচিত?” শীর্ষক আলোচনার আলোচনায় মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে ইমামদের বিভিন্ন মতের কথা সমানভাবে তুলে ধরেছেন।

এক্ষেত্রে আমাদের মতের সাথে তার দলীল নির্ভর দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে তার প্রামাণ্য বক্তব্যের বিপক্ষে তার সম্পর্কে কটু মন্তব্য করা শোভা পায় না।

অপবাদঃ “ডা. জাকির নায়েক চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা. কে উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে দাবী করেছেন- যা মূলত: ভ্রান্ত শিয়া ফিরকার আকীদাবিশ্বাস। -নাউযুবিল্লাহ।

এক্ষেত্রে ডা. জাকির নায়েক বলেছেন যে, আবূ বকর সিদ্দীক রা. যে উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ -এর কোন দলীল-প্রমাণ পাওয়া যায় না।” (গবেষণা প্রতিবেদন, মাসিক আদর্শ নারী, মে ২০১১, পৃষ্ঠা নং ১৩)

গবেষণা প্রতিবেদন বলা হলেও উপরোক্ত কথা দুটি ড. জাকির নায়েক তার কোন আলোচনায় বলেছেন তার কোন সূত্র বা উদ্ধৃতি দেয়া হয়নি। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলে এ বিষয়টি তারা খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন। অর্থাৎ ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ আগে প্রকাশ হয়ে গেছে অনুসন্ধান ছাড়া, পরে অনুসন্ধান করে সূত্র জানানো হবে। কিন্তু পরের মাস জুনের পত্রিকাতেও জবাব পাওয়া যায় নি। উল্টো জাকির নায়েক সম্পর্কে নতুন নতুন পরস্পর সাংঘর্ষিক কথা বলা হয়েছে। জুন মাসের আদর্শ নারী পত্রিকায় জাকির নায়েক সম্পর্কে আরো মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে।

অপবাদঃ “যারা হিন্দুস্থানে বাস করে তারা সকলেই হিন্দু, কাজেই আমাকেও (ধর্মীয় দিক থেকে) হিন্দু বলতে পারেন।” (মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী লিখিত বই, ডা. জাকির নায়েকের ভ্রান্ত মতবাদ, শেষ পৃষ্ঠা)

ড. জাকির নায়েক তার “হিন্দু ইজম এন্ড ইসলাম” শীর্ষক আলোচনার শুরুতেই বলেছেন, “হিন্দু শব্দটির একটি ভৌগলিক বিশেষত্ব রয়েছে। হিন্দু শব্দটি এসেছে সিন্ধু থেকে। সিন্ধু শব্দটি উচ্চারণে কঠিন হওয়ার কারণে লোকেরা একে সহজ করে ‘হিন্দু’ বলে উচ্চারণ করা শুরু করে। এরপর এক সময় সিন্ধুনদের পাশে বসবাসকারী ভারতীয়দেরকে বোঝানোর জন্য হিন্দু শব্দ ব্যবহার শুরু হয়।” (এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিজিওন অফ এথিক্স ৬ নং খন্ডের ৬৯৯ অধ্যায় দ্রষ্টব্য।)

‘হিন্দু ইজম এন্ড ইসলামে’র এই আলোচনার পুরোটা আমি কয়েকবার শুনেছি, কিন্তু কোথাও ড. জাকির নায়েকের “কাজেই আমাকেও হিন্দু বলতে পারেন” এই কথা শুনিনি। সমালোচকও তার বক্তব্যে কোন রেফারেন্স দেন নি। সম্ভবত: তিনি তার উর্বর মস্তিস্ক দিয়ে ড. জাকির নায়েকের কথা, ‘অভিধানে হিন্দু শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে সিন্ধুনদের অববাহিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দেরকে’ -এ থেকেই পরের অংশ “কাজেই আমাকেও হিন্দু বলতে পারেন” নিজ থেকেই সংযুক্ত করে দিয়েছেন অথবা পরিস্কার ভৌগলিকভাবে ব্যবহৃত একটি শব্দের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে একজন মুসলমানকে ইসলাম থেকে বের করে দিতে চেয়েছেন। (আমাকে হিন্দু বলতে পারেন -এই কথা জাকির নায়েকের মুখে যদি কেউ কোন আলোচনায় শুনে থাকেন হালে লিঙ্ক দিবেন আশা করি অথবা আলোচনার নাম বলবেন।)

প্রিয় পাঠক! উপরের সেই কাল্পনিক ঘটনার সাথে এবার মিলিয়ে দেখুন, একজন মুসলিমের বিরোধীতা করার জন্য কোথাকার পানি কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অপবাদঃ “ড. জাকির নায়েক কাজা নামায অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, কাজা নামায পড়ার দরকার নেই। তাওবা করে নিলেই চলবে।” (গবেষণা প্রতিবেদন, মাসিক আদর্শ নারী, মে ২০১১, পৃষ্ঠা নং ১৩)

অথচ এটি ড. জাকির নায়েকের বিপক্ষে একটি সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য তথ্য। ‘কাজা নামাজ’ আর ‘উমরী কাজা নামাজ’ দু’টি আলাদা আলাদা বিষয়। জাকির নায়েক তার কোন আলোচনাতেই ‘কাজা নামাজ’ এর বিপক্ষে বলেন নি। তবে ‘উমরী কাজা নামাজের’ ব্যাপারে শুধু জাকির নায়েক নন, আরবের আরো অনেকেরই ভিন্ন মত আছে। তাদের মতের স্বপক্ষে দলীলও আছে, বিপক্ষেও কথা আছে। (দীর্ঘ সূত্রতা পরিহার করার জন্য উভয় পক্ষের দলীল দেয়া থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে)

তাই এক্ষেত্রেও তার সাথে আমাদের দ্বিমত হতে পারে। কিন্তু তাই বলে ‘উমরী কাজা’ নামাজকে শুধুমাত্র ‘কাজা নামাজ’ বলে চালিয়ে দেয়া তো প্রকাশ্য অন্যায়।

অপবাদঃ “রাসূল সা. এর একাধিক বিবাহ ছিলো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য।”

এখানেও ড. জাকির নায়েকের বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। জাকির নায়েক তার “ইসলামে নারীর অধিকার” শীর্ষক আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “প্রিয়নবী সা. এর একাধিক বিয়ের অনেকগুলো কারণ ও যৌক্তিক পয়েন্ট ছিলো। তার মধ্যে একটি ছিলো জনকল্যাণ ও সমাজ সেবা। যেমন হযরত খাদিজা রা. এর সাথে বিবাহ। প্রিয়নবী সা. এর দু’টি বিবাহ ছিলো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। একজন হযরত খাদিজা রা. ও অপরজন হযরত আয়শা রা.। এছাড়া মহানবী সা. এর বাকি বিবাহ গুলো প্রত্যেকটিই ছিলো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে। হয়তো সমাজের কোন সংস্কার, বিভিন্ন গোত্রের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক ও ভৌগলিক কারণ।”

এই পুরো বক্তব্যের মাঝখান থেকে “রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল” বলে বিকৃত উদ্ধৃতি প্রদান নি:সন্দেহে অনুচিত।

আর মহানবী সা. একাধিক বিয়ের কোনটির ক্ষেত্রে যদি রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণ থেকে থাকে তাহলে তা অস্বীকার করাটা এতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো কেন, তা বোধগম্য নয়। এটা কি কেবল বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা?

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: