অথচ এই হেফাজত​-কওমীদের ৫ই মে এর সত্য তুলে ধরার জন্য নিষিদ্ধ হ​য়েছিলো জামায়াতের চ্যানেল

diganta

বাংলাদেশে সরকার-বিরোধী বলে পরিচিত দিগন্ত টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি ইসলামিক টিভির সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়েছে। রাত সোয়া চারটার দিকে চ্যানেল দু’টির সব ধরনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে, কোনো কোনো গণমাধ্যম জানিয়েছে- রাত ৪টা ২৪মিনিটে বন্ধ করা হয় সম্প্রচার।

চ্যানেল বন্ধের কারণ হিসেবে এখনো কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু গণমাধ্যম খবর দিয়েছে- সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে টিভি চ্যানেল দিগন্ত বন্ধ করা হয়েছে। তবে, দিগন্ত টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক জিয়াউল কবির সুমন জানান, রাত ৪টা ২৪ থেকে ৪টা ২৮মিনিটের মধ্যে চ্যানেল বন্ধের কাজ শেষ করা হয়। এ সময় চ্যানেল বন্ধের কারণ জানতে চাইলে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, “ওপরের নির্দেশে চ্যানেল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে; বুঝে নেন।” তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইসলামিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক এ বি এম সাদ বিন রাবি অভিযোগ করেন, রোববার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় প্রায় ৭০ জন পুলিশ ও অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ৯০ জন সরকারদলীয় কর্মী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে গেট ভাঙার সরঞ্জামও ছিল। তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করে বেশ কিছু দামি সম্প্রচার যন্ত্র ও হার্ডডিস্ক ভাঙচুর করেন। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ক্যামেরাম্যান ও নিউজ প্রেজেন্টাররা ভয়ে পেছনের দরজা দিয়ে চলে যান। রাত আড়াইটা থেকে ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামির কর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে সরকার। এ জন্য রাত আড়াইটার দিকে মতিঝিলে অবস্থানকারী হেফাজত কর্মীদের সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির বেশ কয়েক হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নেয়। প্রচুর পরিমাণ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। সরেজমিন রিপোর্টারদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, শত শত মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং অনেকের লাশ ময়লার গাড়িসহ বিভিন্ন গাড়িতে করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে, গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়নি । বরং বেসরকারি চ্যানেল আরটিভি বলেছে-পুলিশ র‍্যাবের ফাঁকা গুলিতে ফাঁকা হয়ে যায় শাপলা চত্বর। এ চ্যানেলের সকাল আটটার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে- দমকল বাহিনীর লোকজন শাপলা চত্বর এলাকা ধোয়া মোছার কাজ করছে।

তিন দিক থেকে অপারেশন শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের নির্বিচার গুলিতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতের এ নেতারা।

গুলি, টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে মতিঝিল এবং এর আশপাশের এলাকা। এ সময় হেফাজতে ইসলামের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন অলি-গলিতে আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে আইন-ঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই সব অলি-গলিতেও হানা দেয়। রাত ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। এ অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য অংশ নেয়।
এর আগে, দিনভর সংঘর্ষের পর রাতেও পুরানা পল্টন এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। রাত ৮টার পরেই পুলিশ দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর মতিঝিল মঞ্চে চলছিল হেফাজতের ওয়াজ। রাত ২টা পর্যন্ত কয়েক দফা আক্রমণের খবরে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হেফাজতকর্মীদের মাঝে। তাদের কাছে বিভিন্ন সময় তথ্য আসতে থাকে- যেকোনো মুহূর্তে পুলিশি অভিযান শুরু হচ্ছে।

রাত আড়াইটার দিকে তিন দিক থেকে এগিয়ে আসতে থাকে পুলিশের সাঁজোয়া যানগুলো। এ সময় হেফাজতে ইসলামের সদস্যরা সমবেতভাবে জিকির করছিলেন। পুলিশের সাঁজোয়া যান আরামবাগ পুলিশ বক্স, দৈনিক বাংলা এবং টিকাটুলির দিক থেকে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের জন্য খোলা থাকে পূর্বের কমলাপুরের দিক। মাত্র আধাঘণ্টার অভিযানে পুরো মতিঝিল ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় অসংখ্য রাউন্ড গুলি, টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- মতিঝিল ও আশপাশের এলাকার রাস্তায় বহু আহত ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেছেন। বিভিন্ন অলি-গলিতে যেসব হেফাজতকর্মী আশ্রয় নিয়েছেন তাদেরকে আটক করা হচ্ছে।

৬ মে (রেডিও তেহরান):

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: