চিশতী তরীকা ধরতে হবে – আল্লামা শফি

safi-big20160419150319
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

দ্বীনি শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রচলিত মাদ্রাসা গুলো প্রধানতঃ দুই ভাগে বিভক্ত – ১. ক্বওমী মাদ্রাসা ২. আলিয়া বা সরকারী মাদ্রাসা।সাধারণতঃ অধিকাংশ ক্বওমী মাদ্রাসা গুলো হিন্দুস্থানের ‘দেওবন্দ মাদ্রাসা’ এবং দেওবন্দী আলেমদের অনুস্মরণ করে থাকে।

যাই হোক, ক্বওমী মাদ্রাসাগুলোর মাঝে চট্টগ্রামের ‘হাটহাজারী মাদ্রাসা’ অনেক পুরনো এবং দেশের সবচাইতে বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।হাটহাজারী মাদ্রাসার মহা পরিচালক হচ্ছেন মাওলানা শাহ আহমাদ শফি (আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন)।তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে তিনি ‘আল্লামা শফি’ নামে বেশি পরিচিত।দেওবন্দী আক্বিদাহর অনুসারী আলেমরা মাওলানা আহমাদ শফিকে আমাদের দেশের সবচাইতে বড় আলেম বলে গন্য করেন।অন্যান্য দেওবন্দী আলেমদের মতো মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবও ‘সূফীবাদের’ অনুসরণ করেন।তিনি সূফীদের মাঝে প্রচলিত ‘চিশতী’ তরীকার অনুসরণ করেন।আপনারা চিশতী তরীকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আহমাদ শফি সাহেবের নিজের লেখা কিতাব ‘ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া’ পৃষ্ঠা-৬৬ দেখুন।

মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব ‘পীর মুরিদী’ প্রথার সমর্থন করেন, এবং তিনি নিজে ‘পীর’ হিসেবে চিশতী তরীকার উপরে তার ভক্তদের ‘বাইয়াত’ গ্রহণ করে থাকেন।ইউটিউবে মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবের একটা ভিডিও রয়েছে, যেখানে তিনি তার অনেক ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটা রশি নিক্ষেপ করেন এবং কুরআনের একটা আয়াতের অপব্যবহার করে তাঁর ভক্তদের কাছ থেকে বিদআতী বাইয়াত গ্রহণ করেন।এছাড়া এক সময়ের পীস টিভি বক্তা হাসান জামিল সাহেব মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবকে তার নিজের পীর বলে স্বীকার করেছিলেন।যদিও একশ্রেণীর মানুষ মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবকে ‘আল্লামা’, ‘হাক্কানী পীর’, ‘আল্লাহর বড় ওলি’, ‘মহা বিদ্যান’ ইত্যাদি নজরকাড়া উপাধিতে ভূষিত করে থাকেন, কিন্তু অন্যান্য সূফীদের মতো তিনিও শিরক ও বিদআতী আমলের চর্চা ও ভ্রান্ত আক্বিদাহ লালন করে থাকেন।
নীচে আমি তার একটা উদাহরণ দিচ্ছি- মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব তাঁর ভক্তদের জন্য একটা কিসসা বর্ণনা করেছেন, যা নিন্মরূপঃ
হোসাইন আহমদ মাদানী ( রাহ.)কে মদীনায় তাঁর ছাত্ররা প্রশ্ন করলো, ‘রাসূল (সা.) কি কবরে জীবিত? হোসাইন আহমদ মাদানী বললেন, ‘আলমে মেছালীতে রাসূল (সা.)জীবিত। কিন্ত তার ছাত্ররা দলিল-প্রমাণাদী পেশ করলো যে,
﴿ اِنَّكَ مَيِّتٌ وَّاِنَّهُمۡ مَّيِّتُوۡنَ‏﴾
কোরআনে সুরা ঝুমার আয়াতে বলা হয়েছে ‘হে নবী! নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে’।

মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী (রাহ.) ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করলেন, কিন্ত তারা বুঝতে অপ্রস্তুত।এরপর হোসাইন আহমদ মাদানী ছাত্রদেরকে নিয়ে ‘রওযায়ে আতহার’ অর্থাৎ, রাসূল (সা.) এর কবরের কাছে নিয়ে গেলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করলেন।এই ইশারাতে রাসূল (সা.) ‘রওযা’ থেকে মাথা উঠিয়ে সকলকে দেখা দিয়ে আবার মাটির নিচে লুকিয়ে গেলেন! মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব সাহেবের নিজের লিখা কিতাব (ইরশাদাতে মুরশিদী পৃষ্ঠা ৪২)।
.
মন্তব্যঃ
১.এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং রাসূল (সা.) সম্পর্কে নির্জলা মিথ্যা অপবাদ।কোন মানুষের ডাকে রাসূল (সা.) কবর থেকে বের হয়ে এসেছেন এমন কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান ও মর্যাদার জন্য অসম্মানজনক।আর কোন নবী অথবা রাসূল (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি প্রেরণ করুন) সম্পর্কে অসম্মানজনক কথা বলা কুফরী।
২. সূফীদের মাঝে বদ একটা চরিত্র হচ্ছে নিজেদের পীর ও মাশায়েখকে উঁচু করার জন্য ‘কারামত’ নাম দিয়ে উদ্ভট ও মিথ্যা কাহিনী প্রচার করা।এমনকি কখনো তারা বেপরোয়া হয়ে এমন কাহিনী রচনা করে যা শিরক কিংবা কুফরে গিয়ে পৌঁছে, উপরের বানোয়াট ঘটনাটা তারই একটা উদাহরণ।ঠিক এমনই অন্য একটা মিথ্যা কিসসা বর্ণনা করেছেন প্রচলিত ‘তাবলীগ জামাত’ এর লেখক মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলবী সাহেব (আল্লাহ তাকে উপযুক্ত প্রতিদান দিন)।
এছাড়া মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবের আরো কিছু বিদআ’তী আমল নিন্মে বর্ণনা করা হলোঃ
১. চিশতী তরীকা ধরতে হবে।(ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ৬৬)।
২. প্রতিদিন নির্জনে আধা ঘন্টা ‘মোরাকাবা মাইয়্যিয়াত’ বা ধ্যান করতে হবে।(ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২৫)।
৩. প্রতিদিন এক ঘন্টা ‘যিকরে পাছে আনফাছ’ করতে হবে।(ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২২)।
৪. ‘আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু’ জিকির করতে হবে প্রতিদিন ৫০ হাজার বা ১লক্ষ ২৫ হাজার বার।(ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২৪)।
৫. ‘ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ’ – অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া, আল্লাহ ছাড়া, (নাউযুবিল্লাহ!) এই যিকির করতে হবে ৪০০ বার।(ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ৬৬)।

মন্তব্যঃ
‘ইল্লাল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহ নেই, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।পূর্ণ কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাদ দিয়ে শুধু ‘ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ’ শব্দ দিয়ে যিকির করা বিদআ’ত এবং এই কথাটা কুফুরী। আল্লাহ আমাদেরকে শিরক ও বিদআ’তের শয়তানী ধোঁকা থেকে হেফাজত রাখুন, আমিন।এ কথা আমরা ভালো করেই জানি, শিরক ও বিদআ’তে লিপ্ত আলেমদের সমালোচনা করলে তাদের অনুসারীরা আমাদের উপর রাগ করেন এবং কটু মন্তব্য করে দাওয়াতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।এছাড়া পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বা দলের প্রতি দূর্বল বা অনেক আবেগী মুসলমান, যাদের ইলম কম কিন্তু জিহবা লম্বা, তাদের কেউ কেউ আমাদের বিরোধীতা করে বলেন-

১. আমরা অন্যের নামে গীবত করছি!
২. আমরা উম্মতের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করছি!
৩. আমাদের দাওয়াত ফেতনাহ সৃষ্টি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি!
যারা অন্ধ হয়ে আবেগের ঘোড়ায় সওয়ারী হয়ে চলেন, ইলম ও আলেমদের থেকে দূরে নিজেদের অজ্ঞতা কিংবা আন্দাজের উপর মিথ্যা তর্ক করে আমাদের সময় নষ্ট করেন, অন্যায় গালি-গালাজে লিপ্ত হয়ে আমাদের দাওয়াতে বাঁধা দিতে চান তাদের জন্য দুয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছু বলার নেই!
﴿ يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ كَثِيۡرًا مِّنَ الۡاَحۡبَارِ وَالرُّهۡبَانِ لَيَاۡكُلُوۡنَ اَمۡوَالَ النَّاسِ بِالۡبَاطِلِ وَيَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِيۡلِ اللّٰهِ‌ؕ وَالَّذِيۡنَ يَكۡنِزُوۡنَ الذَّهَبَ وَالۡفِضَّةَ وَلَا يُنۡفِقُوۡنَهَا فِىۡ سَبِيۡلِ اللّٰهِۙ فَبَشِّرۡهُمۡ بِعَذَابٍ اَلِيۡمٍۙ‏﴾
হে ঈমানদারগণ! এ আহলে কিতাবদের অধিকাংশ আলেম ও দরবেশের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায় পদ্ধতিতে খায় এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে তাদেরকে যন্ত্রণাময় আযাবের সুখবর দাও।(সূরা তাওবাহ -৩৩/৩৪)

অর্থাৎ এ জালেমরা শুধু ফতোয়া বিক্রি করে, ঘুষ খেয়ে এবং নজরানা লুটে নিয়েই ক্ষান্ত হয় না।এ সঙ্গে তারা এমন সব ধর্মীয় নিয়ম-কানুন ও রসম রেওয়াজ উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করে যেগুলোর সাহায্যে লোকেরা তাদের কাছ থেকে নিজেদের পরকালীন মুক্তি কিনে নেয়।তাদের উদর পূর্তি না করলে লোকের জীবন-মরণ বিয়ে-শাদী এবং আনন্দও বিষাদ কোন অবস্থাই অতিবাহিত হতে পারে না।তারা এদেরকে নিজেদের ভাগ্য ভঙ্গা-গড়ার একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী মনে করে।উপরন্তু নিজেরদের এমনসব স্বার্থ উদ্ধারের মতলব তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে গোমরাহীতে লিপ্ত করে রাখে।যখনই কোন সত্যের দাওয়াত সমাজের সংশোধনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে তখনই সবার আগে এরাই নিজেদের জ্ঞানী সুলভ প্রতারণা ও ধান্দাবাজীর অস্ত্র ব্যবহার করে তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়!

আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন এদের চক্রান্ত থেকে মুসলিম উম্মাহকে হেফাযত করুন!!
সংগ্রহিত পোষ্ট।

Alamgir

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: