অবশেষে ফাঁস হলো কথিত জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহবান জানানো হলেও তারা কেন আত্মহত্যা করে !

18581855_10213278211335831_4412059804331301030_n
র‍্যাব যে জঙ্গি ঘটনায় প্রথমে গিয়েই বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় এরপর কথিত জঙ্গিদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে, এই তথ্য কয়জন জানতেন? আমরা ভাবতাম এরা বাইরে বেরিয়ে আসেনা ক্যান হাত উঁচা করে? আমাদের দয়ালু র‍্যাব তো সুযোগ দিচ্ছে, তাহলে সমস্যা কি? অথচ তালা লাগিয়ে রেখে যে মাইকে চেঁচানো হয় বের হয়ে আসার জন্য, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি সাধারণ মানুষের কাছে গোপন রাখা হয়েছিলো এতদিন এবং দেখানো হয়েছে যে, এরা সুযোগ থাকা স্বত্তেও আত্মসমর্পণ না করে নিজ নিজ দুধের শিশু এবং পরিবার নিয়েই আত্মঘাতী হয়।
.
আপনাকে বাইরে থেকে লক করে দিয়ে বলা হচ্ছে, বেরিয়ে আসুন। অথচ আপনার বলবার সুযোগ পর্যন্ত নেই, অন্যদের জানানোর সুযোগ পর্যন্ত নেই যে, ভাই আমারে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রেখেছে, কিভাবে বের হবো? এর আগেই লাশ বানিয়ে দেয়া হয় এদেরকে বীর বিক্রমে। সবাই দেখে, গেট ব্যাক রাব্বী মার্কা বীরত্বকাব্য। আবেগে বাঙালী ভিজিয়ে ফেলে দুনিয়া। এভাবেইতো হয়েছে আগেরগুলোও।
.
নরসিংদীর ঘটনায় আটকেপড়া একজন কথিত জঙ্গির ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলার আগ পর্যন্ত ঘটনাগুলো এবং র‍্যাব এবং মিডিয়ায় দেয়া তাদের বক্তব্য হুবুহু অন্যান্য জঙ্গি ঘটনায় ছিন্নভিন্ন জঙ্গিদের লাশ পাবার আগ পর্যন্ত যা যা বয়ান দেয়া হতো সরকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ঠিক তাই ঘটে গিয়েছিলো। হয়ত ঐ স্ট্যাটাসটি দেবার সুযোগ না পেলে আমরা এইসব সাধারণ মানুষদেরকেও আজ জঙ্গি হিসেবে প্রচারিত হতে দেখতে পেতাম এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হতোনা কিংবা ‘আমরা জঙ্গি নই, কসম আল্লাহ’র’ এই কথাগুলো শুনতে পেতাম না। তারা লাশ হয়ে যেতো এর আগেই। যা আগের ঘটনাগুলোতে হয়েছে।
.
যদি এই ছেলেটির কাছে কোনোমতে এই সুযোগ না থাকতো, মোবাইলটি না থাকতো, ফেইসবুক ব্যবহার না জানতো, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে দেরী না হতো র‍্যাবের তবে আপনি আমি আমরা সবাই ধরে নিতাম এরা জঙ্গি, আত্মঘাতী হয়েছে। এভাবেইতো চলে এসেছে এতদিন। জঙ্গিদের লাশ পাবার আগে ও পরে কিছু ঘটনা কি আমরা জানি? জানিনা। সুতরাং এটিও ওরকম একটি কেইস হয়ে যেতো। মাঝখান থেকে কিছু নিরপরাধ মানুষকে মেরে ফেলা হতো এবং তাদের নাম জঙ্গি পড়ে যেতো। মিডিয়া প্রচার করতো তাদের পিতা মাতা তাদের লাশ নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ ঘটনা ফাস হয়ে যাবার পর দেখা গেলো পরিবারের লোকজন কতটা উদগ্রীব তাদের জন্য।
.
একজনের পিতা বারবার র‍্যাবের কাছে অনুনয় করছেন, আমার ছেলে জঙ্গি না, আপনারা কাছে যেতে দিন নিজেরা যেতে ভয় পেলে, ইত্যাদি। র‍্যাব সেই পিতাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেয়। অথচ লাশ হয়ে গেলে তখন প্রচার হতো পিতা লাশ নিতে চায়নি ঘৃণায়। কি চরম অমানবিক আর মিথ্যের মধ্যে পুরো দেশকে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে!
.
জঙ্গি একটি ভয়ংকর ইস্যু। অত্যন্ত সেন্সেটিভ এই ইস্যুটি নিয়ে দেশের অসংখ্য মানুষের মনে এতদিন ধরে চলে আসা সরকারী যেসব কার্যক্রম চলেছে যেমন, সব জঙ্গিরা আত্মঘাতী হয়, ছিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া যায় জঙ্গিদের, দুই তিন মাসের শিশু সহ সাতজনের জঙ্গি দলে পাঁচ জনই দুধের বাচ্চার লাশ, কারা এরা, কি তাদের পরিচয়, কি চায়, দুই তিন মাসের শিশু কিভাবে জঙ্গি হয়, এইসব প্রশ্ন এবং সন্দেহ জেগেছিলো সাধারণ মানুষদের মনে। একজন সুস্থ সাধারণ মানুষ যার ন্যূনতম বোধ বুদ্ধি থাকবে তার মনে এইসব প্রশ্ন জাগবে স্বাভাবিক।
.
তবে আশ্চর্য এই যে, একটি দল এসব প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের ও জঙ্গি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে হত্যা করার পক্ষে। অর্থাৎ মানুষের প্রশ্ন করবার অধিকার নেই। প্রশ্ন তোলা যাবেনা কোনমতেই। হোক সেটি যৌক্তিক প্রশ্ন। সেই দলটির মানুষগুলো এমনই যে, বাঁচবার তাড়নায় আটকে ফেলা ছেলেটি যখন স্ট্যাটাস দেয়, ‘আমি আওয়ামিলীগ কর্মী, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বাঁচান’ তখন তারা বলতে থাকে, শালা তোর আইডিতে দেখি জামাতের পেইজ লাইক দেয়া, তুই মাদ্রাসার, ইত্যাদি।
.
অবস্থা দেখুন। মানে জঙ্গি হোক বা না হোক, মাদ্রাসার ছাত্র, দাড়ি আছে, জামায়াতের পেইজ কিংবা ইসলামিক পেইজে লাইক দেয়া থাকলেই এই দলের লোকেরা তাদেরকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে মেরে ফেলবার পক্ষে। আর কথা নেই। এভাবেইতো হয়ে এসেছে।
.
বাংলাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের জন্য এই ইস্যুটি খুব কার্যকর। ধীরে ধীরে জনমনে ভয় ও আতংক ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে এভাবে যে, দাড়ি রাখলে, ইসলামিক হলে, ইসলাম প্রচার করতে এখন আর স্বাধীনতা নেই। যেকোনো সময় আপনার ঘরের দরজায় তালা লেগে যাবে এবং আপনি আসলে কে, এটি বলবার আগেই লাশ হয়ে পড়ে থাকবেন। এমতাবস্থায় আপনি কি করবেন? আপনি প্রকাশ্যে ইসলাম পালন করতে গিয়ে ভয় পাবেন। কেননা, আগে তালা লাগিয়ে জঙ্গি বলে বয়ান দিয়ে দিলেই আপনি শেষ। আর কিছু দরকার আছে?
.
তখন শত নিষ্পাপ আপনি হলেও আর কিছুই কাজে আসবে না। ঐ ঐটুকুই যথেষ্ট। আপনি হয়ে যাবেন এক্স ফাইল। কি চমৎকার নকশা করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার! সরাসরি ইসলাম পালনে বাধা দেবেনা। তবে জঙ্গিবাদ দমনের নামে আতঙ্কগ্রস্ত করে করে আপনার নিজেকে দিয়েই নিজেকে ইসলাম ঘেঁষা হওয়া থেকে দূরে রাখবে। কি সুন্দর!

Elora Zaman

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: